অবশেষে বীরাঙ্গনা ফুলমতি পেলেন বসতঘর, গাভী ও নগদ টাকা

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
অবশেষে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী পাকবাহিনীর হাতে নির্যাতীত গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি (৭৩) নতুন বসতঘর, একটি গাভী ও নগদ টাকা পেলেন।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আবদুস সামাদ সোমবার বিকেলে সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফুলমতির হাতে ঘরের চাবী, একটি গাভী ও নগদ অর্থ তুলে দেন।

এসময় সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান ছামছুল হাসান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান আকতার বানু লাকী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু রায়হান দোলন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেছের আলী, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবদুর রশিদ, সাদুল্যাপুর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খান বিপ্লবসহ সরকারী কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি সাদুল্যাপুর উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত কুশিরাম রবি দাসের স্ত্রী। তিনি সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের ভূমি অফিসের সামনে রাস্তার ধারে সরকারী খাস জমিতে বসবাস করছেন। পাঁচ ছেলে-ছেলের বউ ও নাতী-নাতনী নিয়ে তার সংসার। খাস জমিতে একটি ঝুপড়ি ঘরে বাস করতেন তিনি। তার বড় ছেলে অসুস্থ্য জনিত কারণে ২৭ বছর আগে মারা যান।

রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতির জীবন যাপন ও বীরাঙ্গনা স্বীকৃতির জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়। চলতি বছরের ১৪ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৩৩ তম সভায় রাজকুমারী রবিদাসসহ আরও ২৬ জন বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার।

জীবনের শেষ সময়ে এসে রাষ্ট্রীয় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও বসতঘর, গাভী ও নগদ টাকা পেয়ে রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি বেশ আনন্দিত। মায়ের থাকার ঘর হওয়ায় ছেলে-মেয়েসহ তার পরিবারের লোকজনও খুব খুশি। এছাড়া তিনি সরকারীভাবে প্রতি মাসে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন।

রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি বলেন, ‘আমি আর কয়দিন বাঁচবো। তারপরেও জীবনের শেষ সময়ে এসে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিসহ নতুন ঘর, গাভী ও নগদ টাকা পেলাম। এখন মরেও শান্তি পাব। কিছুটা হলেও কলংক দুর হলো। এজন্য তিনি গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন’।

প্রসঙ্গত: ৭১’এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একটি রাতে স্থানীয় এক বিহারীর সঙ্গে হঠাৎ করে পাকিস্তানী পাক বাহিনী ও তাদের সহযোগিরা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতির বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে তাকে ঘর থেকে ঠেনে বের করে বাইরে এনে সম্ভাম্যহানী ঘটায় পাকিস্তানী পাক বাহিনীরা। কয়েক দফায় পাক বাহিনীরা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতির সম্ভাম্যহানী ঘটনা ঘটায়। এরপর ১৯৮৮ সালে স্বামী কুশিরাম রবিদাস মারা যান।

  •  
  •  
  •  
  •