চাকরি চেয়ে ফেসবুকে যা লিখলেন মমেকের সাবেক পরিচালক

নিউজ ডেস্কঃ চাকরির আবেদন জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. নাসির উদ্দীন আহমেদ।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন-

‘প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন শুভাকাঙ্ক্ষী। আজ ১ বছর ২ মাস ঘরে বসা। এলপিআর শেষ। সংসার ও নিজকে কর্মক্ষম রাখতে কিছু করা প্রয়োজন। নিজের ভবিষ্যৎ চিন্তা করিনি। হালাল ও হারামের সং মিশ্রণে এ জীবন।

মেডিকেল ও নন-মেডিকেল যে কোনো সেক্টরে কোনো নিবেদিত ও সৎ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান আমাকে বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে চাকরির সুযোগ দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।’

এদিকে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) তিনি নিজের ফেসবুক ওয়ালে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন। যেখানে তিনি নিজের কিছু ক্ষোভের কথাও প্রকাশ করেন।

সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন,
‘শ্রদ্ধাভাজন প্রাক্তন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভুইয়া স্যারের অধীনে ঢাকা সিএমএইচে আধুনিকায়নের কাজে নিবেদিতভাবে কাজ করার পুরস্কার হিসেবে রিটায়ারমেন্টের ৪ দিন আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ বছর ৮ মাস ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করেছি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে। দুজন ডাক্তারি পড়ুয়া মেয়েকে একা ঢাকা রাখা এবং অসুস্থ মাকে রেখে ময়মনসিংহে একা থাকতে হয়েছে।
কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ এবং ক্ষমতাধর মানুষ তাদের ক্ষমতা দেখিয়েছেন। অবসরে আসার পর তারা যেখানেই সিভি দেই সেখানে নেগেটিভ ফিডব্যক দেয় আমার সম্পর্কে।
আল্লাহ সবকিছু দেখছেন। তিনি সবকিছুর হিসাব নেবেন। আমি চাকরি জীবনে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে নানাবিধ অসুখে আক্রান্ত হয়েছি।
আমি কারো আনুকূল্যে বাঁচতে চাই না। মানুষ হিসেবেই সহযোগিতা চাই। চাকরি জীবনে যেটা দেশের স্বার্থে প্রয়োজন তাই করেছি। পপুলার হতে চাইনি।
কর্মীরা কাজ করেন, সংস্থাপ্রধান এর সুফল পান।
আমার বাবা দুবার ৭৫ পর্যন্ত এমপি ছিলেন।সম্মুখ মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, এমবিবিএস ডাক্তার ছিলেন।
চাকরি জীবনে এর কোন সুবিধা নেইনি। সব সরকারের আমলে প্রথমবার পদোন্নতি পেয়েছি।
অবসরের পর এলপিআর শেষ হয়ে যাওয়ায় পর সংকটে পরেছি। বর্তমান ব্যাংকের লভ্যাংশ ৬%। যারা ব্যাংকে টাকা রাখেন তারা বোঝেন সংকট কি।
আমি ব্যবসা বুঝি না।
আমি সোসাল মিডিয়ায় চাকরির নিবেদন করেছি। আল্লাহ চাইলে হবে না চাইলে হবে না।
আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হব না। রাজনীতি না করেও, এমপি না হয়েও দেশের জন্য কাজ করা যায়।’

  •  
  •  
  •  
  •