রাবিতে সাংবাদিক মারধর: আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

রাবি প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ডেইলি স্টারের সাংবাদিক আরাফাত রহমানকে মারধরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। মঙ্গলবার ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানায়।

ঘণ্টাব্যাপী চলা এ মানববন্ধনে রাজশাহী ও রাবিতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এতে বাংলাদেশর ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, রাবি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট, রাবি ছাত্র ফেডারেশন, ঝিনাইদহ জেলা সমিতি সংহতি জানায়।

মানববন্ধনে এসময় বক্তারা বলেন, দায়েরকৃত মামলা যেনো কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়। পুলিশ যেহেতু মামলা গ্রহণ করেছে, তাই মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহ্বান করে বক্তরা আরো বলেন, আরাফাত সাংবাদিকের পাশাপাশি একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দায়িত্বও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। এসময় বক্তারা জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানায়।

রাবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজ রনি সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দৈনিক সমকালের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান সৌরভ হাবীব, যমুনা টিভির ক্যামেরাম্যান জাভেদ অপু, রাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হাসান আদিব, সহ-সভাপতি মোস্তাফিজ মিশু, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি কায়কোবাদ খান, সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মিঠু, রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি তাসলিমুল আলম তৌহিদ, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আব্দুল মজিদ অন্তর প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, সোমবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দেশ ট্রাভেলস-এর বাস ভাঙচুর করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আহমেদ সজীব, সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ আল হাসান লাবন, আইন বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাননসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। ওই ঘটনার ছবি তোলায় সাংবাদিক আরাফাতকে বেধড়ক মারধর করে তারা।

ওইদিন রাতে নগরীর মতিহার থানায় সাংবাদিক আরাফাত বাদী হয়ে চার ছাত্রলীগ নেতার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই চারজন হলেন ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কানন, আইন বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়, সহ-সভাপতি আহমেদ সজীব, সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ আহসান লাবন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: