নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করায় উত্তপ্ত বাকৃবি, গাড়িচাপায় আহত আন্দোলনরত ৪ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁসকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁসের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে নিরাপত্তা শাখার সামনে অবস্থান নিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়া হল ছাত্রলীগের একাংশের কর্মীদের সাথে ছাত্রলীগের আরেক অংশের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সোমবার (২৮ মার্চ) এ ঘটনাটির একটি খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেয় ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজটির সম্পূর্ণ অংশ দেখার জন্য নিরাপত্তা শাখায় কিছু শিক্ষার্থী গেলে সেখানে প্রশাসনের কয়েকজন শিক্ষক সেটি দেখতে নিয়ম কানুন ও অনুমতির কথা বললে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা আগে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিডিও ফুটেজ কেন দেখানো হয়েছে তা নিয়ে তর্কে লিপ্ত হন এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে পড়ে।। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা অবৈধভাবে খণ্ডিত ভিডিও ফাঁস করার অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা শাখার সামনে অবস্থান নেন এবং সম্পূর্ণ ভিডিও প্রকাশ কিংবা ফাঁসের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি তোলেন।

এ সময় উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী বহিরাগত একটি প্রাইভেট কারের মাধ্যমে আহত হলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা কারটি ভাংচুর করে। এতে চার জন শিক্ষার্থী আহত হয়, এদের একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা শাখার সামনে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোহাম্মদ মহিরউদ্দীন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে। কারা নিয়মবহির্ভূতভাবে সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস করেছে এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এসময় “জ্বালোরে রে জ্বালো আগুন জ্বালো, প্রশাসনের কালো হাত ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও, প্রশাসনের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে, পদত্যাগ চাই পদত্যাগ চাই প্রক্টরের পদত্যাগ চাই” বলে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবৈধভাবে খণ্ডিত ভিডিও ফাঁস করার সাথে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তিন দফা দাবিতে প্রশাসনকে ২ ঘন্টার আল্টিমেটাম বেঁধে দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দাবি তিনটি হলো- পূবালী ব্যাংকের সামনের ফুটেজ দেখাতে হবে, সিসিটিভি ফুটেজ চুরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার দায়ভার নিতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •