সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে ছাত্রলীগের ভাঙচুর; হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ
সিলেট প্রতিনিধি:
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ হোস্টেলে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পরপরই কলেজ কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সকল ছাত্রদের হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা টিটু চৌধুরী এবং ডায়মন্ডের নেতৃত্বে এ হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে এমসি কলেজ হোস্টেল ভাঙচুরের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসকে প্রধান করে তিন সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান কলেজটির অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ।
কলেজ অধ্যক্ষ আরও জানান, উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হোস্টেল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা রঞ্জিত সরকারের অনুসারী ছাত্রলীগের হোসেইন গ্রুপ ও টিটু গ্রুপের মধ্যে বুধবার রাতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাতাহাতি হয়। রাতে হোস্টেলে দু’গ্রুপ অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়।
এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ভাংচুর চালায় রঞ্জিত সমর্থিত গ্রুপের ছাত্রলীগ নেতা টিটু চৌধুরীর অনুসারী নেতাকর্মীরা।
ছাত্রাবাসের প্রথম ব্লকের ২টি কক্ষের দরজা-জানালা, ২য় ব্লকের একটি দরজা ও জানালা, শ্রীকান্ত ব্লকের ৬টি দরজা ও জানালা, ৫ম ব্লকের ১৪টি দরজা ও জানালা এবং ৪র্থ ব্লকের ১৬টি দরজা ও জানালা ভাংচুর করে তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ এবং কলেজ প্রশাসন ঘটনাস্থলে যায়। এ নিয়ে হোসেইন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জিদান আল মুসা জানান, বুধবার রাত থেকেই এই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। রাতে পুলিশি তৎপরতা থাকায় চলে গেলেও বৃহস্পতিবার সকালে ফের এসে তারা এ ঘটনা ঘটায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি এখন শান্ত। ভাঙচুরের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ও হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিন হোস্টেল ভাঙচুরের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
হোস্টেল ভাঙচুরের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এমসি কলেজ ও হোস্টেল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খবর পেয়ে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল আলম জানান, বিপুল সংখ্যক পুলিশ ছাত্রাবাসে মোতায়েন করা হয়েছে।
২০১২ সালে ৮ জুলাই এমসি কলেজে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষের জের ধরে আসাম পেটানের শত বছরের পুরনো কলেজ হোস্টেলের একটি ব্লকের ৪০টি কক্ষ পুড়িয়ে দেয় ছাত্রলীগ।
হোস্টেল পুড়ানোর সঙ্গে জড়িতরাই আজকের এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, আগের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে যদি তাদের শাস্তির আওতায় আনা হতো, তাহলে আজকের এ ঘটনা ঘটতো না।
তিনি আরো বলেন, পূর্বে হল পুড়ানোর ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। খুব শিগগিরই অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

