দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার। এদের মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ১০ লাখ এবং নারী ৮ কোটি সাড়ে ৭ লাখ। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত হিসাবে এ তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

সোমবার বিকেলে শেরেবাংলা নগরের এনইসি অডিটোরিয়ামে পরিসংখ্যান ব্যুরোর মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) প্রকল্পের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। জনসংখ্যার মধ্যে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের নিচে। জনসংখ্যার অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে শহর এলাকায় আগমনের হার বাড়ছে। অর্থাৎ গ্রামের মানুষ শহরমুখী হচ্ছে।

এছাড়া ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব মানুষের মধ্যে শিক্ষার হার (সাক্ষরতা) ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০১২ সালে ছিল ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক একেএম আশরাফুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কেএম মোজাম্মেল হক, আইএমইডির সচিব মফিজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মো. আমির হোসেন।

এ সময় জানানো হয়, দেশে মোট জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭১ দশমিক ৬ বছর। তবে পুরুষের তুলনায় নারীর গড় আয়ু বেশি বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট জনসংখ্যায় পুরুষ ও নারীর অনুপাতে ভারসাম্য আসলেও নারী এখনও উচ্চমাত্রায় পুরুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বর্তমানে দেশের শতকরা ৮৭ দশমিক ২ ভাগ পরিবারের খানা প্রধান হচ্ছে পুরুষ। অন্যদিকে বর্তমানে ১০০ নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ১০০ দশমিক ৩, যা ২০১২ সালে ছিল ১০৪ দশমিক ৯। গত ৫ বছর ধরে এ লিঙ্গানুপাত কমেছে।

বিয়ের গড় বয়স:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ বছরে পুরুষদের বিয়ের গড় বয়স ১ দশমিক ৬ বছর বেড়েছে। ২০১২ সালে পুরুষদের বিয়ের গড় বয়স ছিল ২৪ দশমিক ৭ বছর, যা ২০১৬ সালে হয়েছে ২৬ দশমিক ৩ বছর। বিয়ের বয়স গড়ে প্রতি বছর শূন্য দশমিক ৩ বছর করে বেড়েছে। তবে পুরুষের বিয়ের গড় বয়স বাড়লেও নারীদের বিয়ের গড় বয়স গত ৫ বছর ধরেই ১৯ বছরের কাছাকাছি রয়েছে। ২০১২ সালে নারীদের বিয়ের গড় বয়স ছিল ১৯ দশমিক ৩ বছর, যা ২০১৬ সালে হয়েছে ১৮ দশমিক ৮ বছর।

মরণশীলতা:
২০১৬ সালে বাংলাদেশে প্রতি হাজার জনসংখ্যায় মরণশীলতা ৫ দশমিক ১ জন, যা পল্লী এলাকায় ৫ দশমিক ৭ জন এবং শহর এলাকায় ৪ দশমিক ২ জন। ২০১২ সালে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৩, যা ২০১৬ সালে কমেছে ৫ দশমিক ১ জন। এছাড়া শিশু মৃত্যুহারও কমেছে। ২০১২ সালে প্রতি হাজার জীবিত জন্মে শিশু মৃত্যুহার ছিল ৩৩। তবে ২০১৬ সালে তা কমে হয়েছে ২৮ জন।

আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্য:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খানার গড় সদস্য সংখ্যা ২০১২ সালে ছিল ৪ দশমিক ৫, যা ২০১৬ সালে হয়েছে ৪ দশমিক ৩। বাংলাদেশের নারীরা এখনও উচ্চমাত্রায় পুরুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বর্তমানে দেশের শতকরা ৮৭ দশমিক ২ ভাগ পরিবারের খানা প্রধান হচ্ছে পুরুষ। বয়স্ক শিক্ষার হার বেড়েছে। ২০১১ সালে এ হার ছিল ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে বর্তমানে তা বেড়ে ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েছে শতকরা ৭২ দশমিক ৩ ভাগে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বয়স্ক পুরুষদের চেয়ে বয়স্ক নারীরা বেশি শিক্ষিত, শিক্ষার হার বৃদ্ধিতেও নারীরা এগিয়ে। বয়স্ক শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের হার ২২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং পুরুষদের হার ১৬ দশমিক শূন্য শতাংশ। এছাড়া ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশের ৮১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে, যেখানে ২০১২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি:
গত ৫ বছরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার বাড়েনি, প্রায় একই রকম রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে দেখা যায়, প্রত্যাশা অনুযায়ী শহর অঞ্চলের নারীরা (৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ) গ্রামাঞ্চলের নারীদের চেয়ে (৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ) বেশি হারে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতি হাজারে ৯ জন মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। তবে নারীদের (৮ দশমিক ৩ জন) চেয়ে পুরুষদের (৯ দশমিক ৮ জন) প্রতিবন্ধীতার হার বেশি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: