ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় শৈশবের অ্যান্টিবায়োটিক

নিউজ ডেস্ক:
আধুনিক চিকিত্সা পদ্ধতিতে অ্যান্টিবায়োটিক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ হিসেবে বিবেচিত। জীবনরক্ষায় প্রতিনিয়তই এটি ভূমিকা রেখে চলেছে। কিন্তু অন্যান্য ওষুধের মতোই অ্যান্টিবায়োটিকের অতি ব্যবহারও সৃষ্টি করতে পারে অযাচিত সমস্যা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এমনকি এর সঙ্গে বর্তমান সময়ের অন্যতম স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে পরিচিত ডায়াবেটিসের সম্পর্ক রয়েছে। শৈশবে অ্যান্টিবায়োটিকের অতি ব্যবহারে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস টাইপ-১-এর ঝুঁকিও বাড়ে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। খবর হেলথনিউজলাইন।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার এক দল গবেষক শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব সম্পর্কে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। এতে দেখা যায়, দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শরীরে ডায়াবেটিস টাইপ-১-এর ঝুঁকি বাড়ায়। মূলত অ্যান্টিবায়োটিকের অতি ব্যবহার শরীরের অন্ত্রে (ক্ষুদ্র ও বৃহদান্ত্র) থাকা অণুজীবের আবাসস্থলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আর এটিই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

একই বিষয়ে সম্প্রতি আরেকটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গন মেডিকেল সেন্টারের (এনওয়াইইউএলএমসি) গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণায়ও অনুরূপ তথ্যই উঠে এসেছে। তবে নতুন এ গবেষণায় কিছু বিশেষায়িত তথ্যও সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এ গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশ হয়েছে নেচার মাইক্রোবায়োলজিতে।

গবেষকদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ফলে শিশুদের শরীরে বিদ্যমান অণুজীবের বিশেষ পরিবর্তন সাধিত হয়। আর এর ফলাফল হিসেবে এসব শিশুর পরবর্তীতে ডায়াবেটিস টাইপ-১-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

নিউইয়র্কের গবেষকরা ইঁদুরের ওপর কিছু পরীক্ষা চালান। এক্ষেত্রে তারা অস্থূল ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নয় (এনওডি) এমন ইঁদুরের শরীরে ম্যাক্রোলিড টাইসোলিন নামের একটি সাধরণ অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করেন। তিনটি ধাপে এ অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়। প্রথমে একেবারে শিশু অবস্থায় গল্প পরিমাণে প্রয়োগ করা হয়। এর পর কিছুটা বড় হলে আবার এসব ইঁদুরের শরীরে টাইসোলিন প্রয়োগ করা হয়। পরে আরেকটু পরিণত অবস্থায় একই ওষুধ প্রয়োগ করা হয় তাদের শরীরে। এভাবে টানা ৩২ সপ্তাহ টাইসোলিন প্রয়োগের পর দেখা যায়, এসব ইঁদুর অন্যান্য ইঁদুরের চেয়ে ডায়াবেটিস টাইপ-১-এ আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। নিয়মিতভাবে এ ওষুধ প্রয়োগের পর তারা ইঁদুরটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এতে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিকের অতি ব্যবহার ইঁদুরটির অন্ত্রীয় অণুজীবকে প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি এসব ইঁদুরের ডায়াবেটিস টাইপ-১-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। বিশেষত পুরুষ ইঁদুরদের মধ্যে এ সংকট দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি।

গবেষকদের মতে, এনওডি ইঁদুরগুলোর অন্ত্রীয় অণুজীবের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। বিশেষত পুরুষ ইঁদুরগুলোর অন্ত্রীয় অণুজীবের বৈচিত্র্য কমে যেতে দেখা গেছে। আর নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

গবেষক দলের অন্যতম সদস্য এবং এনওয়াইইউএলএমসির হিউম্যান মাইক্রোবায়োম প্রোগ্রামের পরিচালক ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক মার্টিন ব্ল্যাজার বলেন, আমাদের এ গবেষণা অন্ত্রীয় অণুজীবের ওপর অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব ও ডায়াবেটিস টাইপ-১-এর ঝুঁকি বৃদ্ধিতে এর ভূমিকার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: