শিল-পাটায় সুধিরের ২৫ বছর

তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা :

যুবক বয়স থেকেই ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন। সেই সময় তিনি হাতুড়ি আর বাটালি দিয়ে গ্রামের বিভিন্ন গাছের কা- কেটে ছবি আঁকতেন। ছবিগুলো তার স্ত্রীর দেখে ভালোলাগতো। সেই সময় নিজের স্ত্রী বাড়ির মসলা বাটা শিল-পাঠা এগিয়ে দিয়ে তা খোদাই করতে বলেন। সেই দিন পাথর খোদাই করে তিনি একটি মাছে ছবি এঁকেছিলেন।

স্ত্রীসহ পরিবারের সবার কাছে ওই কাজের জন্য তিনি অভিনন্দন পেয়েছিলেন। সেই ৩৫ বছর বয়সে শুরু, একপরে শিল-পাটার ঠুকঠুকে কেটে গেছে ২৫ বছর। দুই যুগের বেশি সময় ধরে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কচুয়া গ্রামের সুধির কর্মকার এ পেশায় আছে।

প্রতিদিন সকালে তিনি ঘাড়ে ব্যাগ ঝুলিয়ে যন্ত্রপাতি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে গ্রামে গ্রামে। মাথায় গামছার বেড়ি। মুখে মাস্ক, চোখে চশমা। হাতে হাতুড়ি বাটাল। হাতুড়ি-বাটালের ঠুক ঠুক শব্দে উঠছে শিল-পাটাতে নকশা। নকশায় উঠে আসে মাছ, পাখি, বিমানসহ বিভিন্ন প্রাণির ছবি।

সুধির কর্মকার জানান, প্রতিদিন সকালে যন্ত্রপাতির ব্যাগ ঘাড়ে নিয়ে গ্রামের পর গ্রাম হেঁটে চলেন। যার যখন প্রয়োজন তখন সে ডেকে শিল-পাটায় নকশা এঁকে দেন (ধার দেয়া)। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫টি পাটায় ধার তুলে দেন। একটি শিল-পাটায় ধার দেয়ার বিনিময়ে তিনি এক কেজি করে চাল পান।

তিনি আরো জানান, বাড়ি মালিকদের কথা মত তিনি শিল-পাটায় বিভিন্ন ছবির নকশা তুলে দেন। তা দেখে বাড়ির শিশুরা খুশি হন।
তিনি আরো জানান, বর্তমান তার বয়স ৬০ বছর। তিন ছেলে এক মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। ৬ জনের পরিবার। ২ ছেলে ১ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা নিজ কৃষি কাজ করে। তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততো দিন এই পেশায় থাকবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: