খরা-অনাবৃষ্টিতে নাকাল অস্ট্রেলিয়ার শিশুরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশে এখন খরা এমন অনাবৃষ্টির কারণে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগে কখনও এমন পরিস্থিতি দেখেনি ওই অঞ্চলের মানুষ। এই খরা ও অনাবৃষ্টিকে বলা হচ্ছে দ্য বিগ ড্রাই।

নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রামীণ এলাকায় এর জন্য সবচেয়ে বেশি ভুগত হচ্ছে সেই সব পরিবারকে, যাদের জীবিকা নির্ভর করে চাষাবাদ বা পশুপালনের ওপর।

অনাবৃষ্টির ফলে এসব পরিবারের শিশুদের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। গ্রামীণ নিউ সাউথ ওয়েলসে অনেক শিশুই জানিয়েছে, প্রচণ্ড ধুলার জন্য তাদের নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। ওই প্রদেশের বহু এলাকায় গত দু’বছর ধরে একফোঁটা বৃষ্টিও হয়নি। আর এই অনাবৃষ্টি অস্ট্রেলিয়ার বহু কৃষক ও খামার পরিবারে বিরাট বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এর বিরূপ প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে ওই সব পরিবারের ছোট ছেলে-মেয়েদের ওপর।

আট বছর বয়সী মাইকেল জানায়, সবাই আজকাল খুব বিষন্ন, কারও মুখে হাসি দেখতে পাই না। বাবার সঙ্গেও আমাদের খুব কম দেখা হয় কারণ তিনি সারাদিন পশুদের খাওয়াতে ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকেন।

আসলে দীর্ঘদিন ধরে খরা চলার ফলে এই খামারি পরিবারগুলোর কাজ খুব বেড়ে গেছে। আর তার রেশ টের পাওয়া যাচ্ছে স্থানীয় স্কুলগুলোতেও। নবম শ্রেণির এক শিশু জানায়, এখন পড়াশুনার খুব চাপ। তাই খুব ভোরে উঠে আবার অনেক রাতে শুতে যেতে হয়। তার সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে ফার্মের কাজ, কারণ গরুগুলোকে ভাল করে যত্নআত্তি করতে হয়।

তার বন্ধু পাশ থেকে বলে, আগে আমি স্কুল থেকে ফিরে একটু বিশ্রাম নিয়ে, হোমওয়ার্ক সেরেই বাইরে খেলতে বেরোতাম। কিন্তু এখন আর তার কোনও সুযোগ নেই, কারণ গরুগুলোকে খাওয়াতে হয়। মাঠে তো কোনও ঘাসই নেই। শুধু ধুলা আর ধুলা-ওরা খাবেটা কী?

ম্যানিলা সেন্ট্রাল স্কুলের প্রিন্সিপাল মাইকেল উইনড্রেড বলেন, আমার স্কুলের বাচ্চারা আজকাল খুব বিষন্ন থাকে। বাড়ির কথা বা চাষাবাদের কথা তুললেই তাদের গলায় সেই বিষন্ন ঝরে পড়ে।

জোসেফাইন নামের এক শিশু জানায়, আস্তাবলে যখন ঘোড়াগুলো কিংবা অন্য গবাদি পশু বা ভেড়াগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে তখন ভীষণ দুঃখ হয়। ওদেরও কিছু করার নেই-কারণ খাবারই যে নেই।

শিশুটি বলে, আমাদের অনেকগুলো ঘোড়ার ওজন খুব কমে গেছে। তিনটে বুড়ো ঘোড়াকে তো মেরেই ফেলতে হল, কারণ আমরা ওদের খেতে দিতে পারছিলাম না।

তার বন্ধুও খুব করুণ গলায় বলছিল, ইদানীং খুব বুঝেশুনে খরচ করতে হয়। ভীষণ প্রয়োজন ছাড়া কোনও পয়সা খরচ করার কথা আমরা ভাবতেই পারি না। প্রতিটা ডলার আমরা এখন খরচ করি গুনে গুনে।

স্থানীয় স্কুলের ডেপুটি প্রিন্সিপাল র্যাচেল ফার্গুসনও বলেন, আমাদের বাচ্চারা খুবই শক্ত ধাতের। কিন্তু ওদের পরিবারগুলো যে কী বিরাট আর্থিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সেটা ওরা দিব্বি বোঝে।

তার সঙ্গে নিজের লাঞ্চ, স্কুলের ইউনিফর্মের একটা খরচও ওরা নিজেরাই দেয়, কাজেই ওরা জানে। নিউ সাউথ ওয়েলস এখন বৃষ্টির জন্য কাতর প্রার্থনা করছে। তবে সেখানে গ্রামীণ স্কুলের শিক্ষকরা এটাও জানেন, আজকের এই বাচ্চারা একদিন আবহাওয়ার এই অনিশ্চয়তার ওপর ভরসা না-করে পাকা চাকরি আর স্থিতিশীলতার আকর্ষণে শহরে পাড়ি জমালে তাদের কোনও দোষ দেওয়া যাবে না!

  •  
  •  
  •  
  •