ভারতে মন্ত্রী-এমপিদের ৩০ শতাংশ বেতন কর্তন

করোনা ডেস্কঃ

করেনানাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সাংসদদের বেতন ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। আগামী এক বছর এই টাকা কাটা হবে। করোনাভাইরাস এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতির মোকাবিলায় খরচ করা হবে এই টাকা। আজ সোমবার দেশটির মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, লোকসভা ও রাজ্যসভার সব সাংসদের বেতন ছাঁটাই হবে ৩০%।

ভারতের রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি এবং প্রতিটি রাজ্যের রাজ্যপালেরা স্বেচ্ছায় তাঁদের বেতনের ৩০% জাতীয় করোনা ত্রাণ তহবিলে দান করবেন বলেছেন। এ ছাড়া সাংসদদের এলাকায় উন্নয়নের জন্য যে তহবিল থাকে, আগামী দু’বছরের জন্য তা বন্ধ থাকবে। ঐ তহবিলের সব টাকা করোনা ত্রাণ খাতে ব্যবহার করা হবে।

জাভরেকর বলেন, আমাদের দেশ কখনো এমন সাংঘাতিক বিপদের মুখে পড়েনি, তাই এর আগে কখনো এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ারও দরকার পড়েনি। সেদিক থেকে এটিকে ঐতিহাসিক বলা চলে। তিনি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঠিক হয়েছে, প্রতিদিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সে দিনের করোনা সংক্রান্ত সব খবর জানিয়ে দেওয়া হবে।

আজ ২১ দিন লকডাউনের ১৩ দিন হলো। কিন্তু ইতোমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে। সরকারের মতে, মাত্র ২১ দিন সম্পূর্ণ লকডাউন করেও ভারতের মতো বিশাল জনবহুল দেশের বিপদ কাটবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও চাইছেন, হঠাৎ লকডাউন না তুলে পর্যায়ক্রমে তুলতে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবার লকডাউন চালু করতে। এমনকি দফায় দফায় লকডাউন সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চালানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। আবার অত দিন টানা লকডাউন চললে লক্ষ লক্ষ মানুষ যে প্রচণ্ড দুর্গতিতে পড়বেন, বহু লোক অর্থাভাবে ও খাদ্যাভাবে মারা যেতে পারেন, সে কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে। করোনা ত্রাণে আলাদা তহবিল সংগ্রহের ভাবনাও সেই জন্য।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: