সিলমারা শতাধিক ব্যালট পড়েআছে কেন্দ্রের পাশে
নিউজ ডেস্ক:
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছড়াইতকান্দি এলাকা থেকে সিল ও স্বাক্ষর সম্বলিত শতাধিক ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে ছড়াইতকান্দি হোছাইনিয়া দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রের পাশে ব্যালটগুলো দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ভিড় জমান। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর ব্যালটগুলো উদ্ধার করেনি।
সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোরগ প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী এনামুল হক শিপনবলেন, ফলাফল ঘোষণাকালে বৈধ ও অবৈধ ভোটের হিসাবে গরমিল থাকায় তাৎক্ষণিক আমিসহ কয়েকজন প্রার্থী প্রতিবাদ জানাই।
সেখানে এর কোনো সমাধান না হওয়ায় আমি রোববার রাতেই সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবারও ভোট গণনার দাবি আবেদন করি। কিন্তু তারা আমার আবেদনটি এখন পর্যন্ত বিবেচনা করেনি।
এ কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, মোট ভোটার ১ হাজার ৭৭১ জন। চেয়ারম্যান পদে ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ২০০ ভোটার। এর মধ্যে বাতিল হয় ২৪৯টি ভোট। সাধারণ সদস্য পদে ১ হাজার ৮১ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে বৈধ ১ হাজার ১৮ ভোট পড়ে এবং বাতিল হয় ৩৬ ভোট।
কিন্তু রহস্য তৈরি হয় নারী সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থীর ভোটের ঘোষিত ফলাফলে। তাতে মোট ভোটার উপস্থিতি দেখানো হয় ৮৫৭ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোট দেখানো হয় ৮৫৭টি আবার বাতিল ভোট দেখানো হয়েছে ১০৩টি। হিসেব মতে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে যোগফল দাঁড়ায় ৯৬০ ভোটে। কিন্তু এ গরমিলের দায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিতে চাচ্ছেন না।
উপজেলা নির্বাচন অফিস জানায়, সোনাগাজী সদর ইউনিয়নে পাঁচজন চেয়ারম্যান, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে চার জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও চার জন সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ভূমি লিখন বণিক বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আমি কেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলাম। ভেতরের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা দায়িত্বে ছিলেন।
কেন্দ্রের বাইরে ব্যালট পাওয়ার কথাটি অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে ছবি ও তার স্বাক্ষর দেখে তিনি বলেন, আপনারা তো জানেন কেন্দ্রে ভেজাল হয়েছে। এর থেকে বেশি বলতে রাজি হননি তিনি।
এ বিষয়ে জানতে সদর ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা তূর্য সাহার মোবাইল ফোনে বারবার করেও পাওয়া যায়নি।

