বাকৃবিতে মশার উপদ্রব
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বসন্তের শুরুতেই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বেড়েছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যা হতে না হতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকা ও হলগুলোতে দেখা দেয় মশার উৎপাত। দিনের বেলায়ও মশার উৎপাত কম নয়। মশার কামড়ে চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, গরম না পড়তেই হঠাৎ করে বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব। এ ছাড়াও নিয়মিত ওষুধ না ছিটানো, ঝোঁপঝাড় পরিস্কার না করা ও যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার কারণে অতিরিক্ত হারে মশার উপদ্রব বেড়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. সহিদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২৩ প্রজাতির মশার রেকর্ড রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিউলেক্স, এডিস, অ্যানোফিলিস, আর্মিজেরিস, ম্যানসোনিয় ও টস্কোরিনকাইটিস অন্যতম। শীত পরবর্তী এই সময়ে বিশেষ করে বসন্তে সারা বাংলাদেশে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। যেগুলোর মধ্যে নিরানব্বই ভাগই কিউলেক্স মশা। মার্চ মাসে যার ঘনত্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।
কিউলেক্স প্রজাতির মশা ড্রেন, ডোবা, নর্দমা এবং পচা পানিতে হয়। অনেকদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণেই ড্রেন, ডোবা, নর্দমার পানি ঘন হয়ে যায় এবং পানিতে জৈব উপাদানের পরিমাণ বেড়ে যায়, যার দরুন এই জৈব উপাদান মশার লার্ভার খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া শীত পরবর্তী সময়ে, মশার প্রজননের জন্য উপযোগী তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়। আর তখনই মশা পর্যাপ্ত পরিমাণে ডিম পাড়ে এবং মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখার নির্বাহী মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা: মো: শাহাদৎ হোসেন বলেন,”মশা নিধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও আবাসিক এলাকাগুলোতে ফগার মেশিন ও ব্লিচিং পাউডার দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ন এলাকাতে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হয়ে উঠছে না। এছাড়া ক্যাম্পাসের আশেপাশের এলাকাগুলো মশা প্রজননের উপযুক্ত হওয়ায় ক্যাম্পাসেও মশার উপদ্রব কমানো সম্ভব হচ্ছে না।”

