পানির নিচে ধান পচেই হাওরে মাছ মরেছে -বাকৃবি বিশেষজ্ঞ দল
বাকৃবি প্রতিনিধি:
অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা বন্যায় অপরিপক্ব ধান পানিতে পচে অক্সিজেনের অভাবে মাছের মৃত্যু হয়েছে বলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল প্রতিবেদন দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। হাওরের পুনর্বাসনে নয়টি সুপারিশও করে ওই বিশেষজ্ঞ দল।
আকস্মিক বন্যার পর হাওর অঞ্চলে মাছের মড়কের কারণ অনুসন্ধান ও নিরীক্ষণবিষয়ক প্রতিবেদনটি পড়ে শোনান গবেষক দলের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মাহফুজুল হক। ছয় সদস্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিশেষজ্ঞ দলটি ২৪ এপ্রিল বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করে পানি, মাটি, মাছ ও হাঁসের নমুনা সংগ্রহ করেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে তাঁরা বলেন, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় মাছের মৃত্যু হয়েছে। বোরো মৌসুমে ধানখেতে প্রচুর পোকামাকড় জন্মায়, এগুলোর মাঝে অনেক বিষাক্ত পোকামাকড়ও থাকে। বন্যায় পোকামাকড় পানিতে ভেসে বেড়ায়। এগুলো খেয়ে বিষক্রিয়ায় এবং ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়ে হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। হালির হাওর থেকে পাওয়া মৃত হাঁসের রক্তের ডিএনএ মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের গবেষণাগারে পরীক্ষা করে সেখানে কোনো ভারী কোনো ধাতুর উপস্থিতি পাননি বিশেষজ্ঞ দল।
অনুষ্ঠানে হাওরবাসীর পুনর্বাসন ও মৎস্য জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে নয়টি সুপারিশ করেছে বিশেষজ্ঞ দল। এগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বোরো ধান নির্ভরশীল হাওরবাসীর জন্য খাবার সরবরাহ করা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও বিকল্প কর্মসংস্থান করা, কম দামে মাছের পোনা সরবরাহ করা, দুর্যোগপীড়িত মানুষদের নিয়ে সমাজভিত্তিক খাঁচায় মাছ চাষ, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ করা, অন্তত ছয় মাস মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৎস্য অধিদপ্তরকে হাওরে বিশেষ নজরদারি করা, মৎস্য, পশুবিজ্ঞান ও ফসল উৎপাদনে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টেকসই প্রযুক্তি অনুশীলন ইত্যাদি।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক মো. জসিমউদ্দিন খান, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সুভাস চন্দ্র চক্রবর্তী এবং বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

