টাইমস হায়ার এডুকেশন ইম্প্যাক্ট র্যাংকিংয়ে বাকৃবি—প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
ড. মোঃ আলমগীর হোসেন
অভিনন্দন, প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আজ ২০২২ সালের টাইমস হায়ার এডুকেশন ইম্প্যাক্ট র্যাংকিং প্রকাশিত হল। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মত এই র্যাংকিং তালিকায় স্থান করে নিল। টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) ২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (Sustainable Development Goals) বা এসডিজি অর্জনে বিশ্ববিদ্যালযয়ের কার্যক্রম/অগ্রগতি মূল্যায়নে ইম্প্যাক্ট র্যাংকিং চালু করে। এবছর বিশ্বের মোট ১৪০৬ টি বিশ্ববিদ্যালয় এই র্যাংকিং তালিকায় স্থান পেয়েছে,তবে ১১০ টি দেশ/অঞ্চলের ১৫২৫ টি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে টিএইচই পোর্টালে তথ্যাদি দাখিল হয়েছিল।
কোন বিশ্ববিদ্যালয়কে টিএইচই ইম্প্যাক্ট র্যাংকিংয়ে জায়গা করে নিতে হলে জাতিসংঘের ১৭ টি এসডিজি এর মধ্যে এসডিজি-১৭ (অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্ব) সহ কমপক্ষে ৪টি এসডিজি সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত টিএইচই ইম্প্যাক্ট র্যাংকিং ডেটা পোর্টালে প্রদান করতে হয়। টিএইচই প্রতিটি এসডিজি এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথক র্যাংকিং সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সার্বিক র্যাংকিং করে থাকে। প্রতিটি এসডিজি এর বিপরীতে স্কোর হিসাবের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐ এসডিজি সংশ্লিষ্ট গবেষণা (প্রকাশনা ও সাইটেশন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মেট্রিক্স দ্বারা পরিমাপ করা হয় যা মোট স্কোরে ২৭% অবদান রাখে) এবং ঐ এসডিজি অর্জনে শিক্ষাদান, তত্ত্বাবধান এবং বহিরাঙ্গন কার্যক্রম মূল্যায়নে বেশ কিছু সূচক থাকে যার অবদান মোট স্কোরের ৭৩%। প্রতিটি সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা পরিমাপে বেশ কিছু প্রশ্নের উল্লেখ থাকে যার উত্তর ও এর স্বপক্ষে দাখিলকৃত প্রমাণে প্রাপ্ত পয়েন্ট থেকে স্কোর হিসাব করা হয়। কোন প্রশ্নের জন্য সর্বোচ্চ ৩ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে (উত্তরে ১ পয়েন্ট, প্রমাণে ১ পয়েন্ট এবং প্রমাণটি পাবলিক হলে আরো ১ পয়েন্ট)। এসডিজি ১৭ এবং অন্য তিনটি এসডিজি (সবচেয়ে বেশি স্কোর প্রাপ্ত) এর স্কোর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক র্যাংকিং করা হয়। এক্ষেত্রে এসডিজি ১৭ এবং অন্য তিনটির প্রতিটি যথাক্রমে ২২% এবং ২৬% করে অবদান রাখে।
বাকৃবি গত নভেম্বরে এসডিজি ১৭ সহ এসডিজি ১ (দারিদ্র্য বিলোপ), এসডিজি ৪ (গুনগত শিক্ষা), এসডিজি ১৪ (জলজজীবন) সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি এবং প্রমাণাদি দাখিল করেছিল। এসডিজি ১৪, এসডিজি ১, এসডিজি ৪, এবং এসডিজি ১৭ এর বিপরীতে বাকৃবির বৈশ্বিক অবস্থান যথাক্রমে ১০১-২০০, ২০১-৩০০, ৩০১-৪০০ এবং ৪০১-৬০০। তবে র্যাংকিং তালিকায় স্থান পাওয়া ১৪০৬ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ বাকৃবির সার্বিক অবস্থান ৬০১-৮০০। বাংলাদেশ থেকে ৯টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১২ টি বিশ্ববিদ্যালয় এই র্যাংকিংয়ে রয়েছে এবং শীর্ষে রয়েছে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় (৩০১-৪০০)। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (৪০১-৬০০), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (৬০১-৮০০) এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (৮০১-১০০০)। ফলাফল থেকে দেখা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইম্প্যাক্ট র্যংকিংয়ের পরিচিতি এখনো খুব একটি হয়নি! উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইউজিসি এবং টিএইচই যৌথভাবে ইম্প্যাক্ট র্যাংকিং নিয়ে একটি মাস্টার ক্লাস এর আয়োজন করছিল যেখানে বাকৃবি সহ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েরই অংশগ্রহণ ছিল।
বাকৃবি এই র্যাংকিংয়ের পরবর্তী সংস্করণে আরো কয়েকটি এসডিজি বিশেষ করে এসডিজি-২ (ক্ষুধা মুক্তি); এসডিজি-৮ (শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি); এসডিজি-১৩ (জলবায়ু কার্যক্রম); এসডিজি-১৫ (স্থলজ জীবন) ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি দাখিল করা সহ সার্বিক র্যাংকিংয়ে বাকৃবি আরো এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করছি।
তবে এসডিজি সংশ্লিষ্ট সকল কার্যাবলী বিশেষ করে আমাদের সন্মানীত শিক্ষকদের সকল ধরনের বহিরাঙ্গন কার্যক্রমের ডকুমেন্টেশন ও বিভিন্ন এসডিজি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন নিয়ে নিয়মিত বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা গেলে ইম্প্যাক্ট র্যাংকিংয়ে বেশ ভাল করার সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংয়ে (২০০৪ সালে কিএস এর সাথে যৌথভাবে শুরু হয়ে ২০০৯ সাল থেকে আলাদাভাবে চালু আছে) বাকৃবি প্রথমবারের মত স্থান পেয়েছে এবং বিশ্বসেরা ১০০১ থেকে ১২০০ এর মধ্যে এবং দেশে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট আছে যথাক্রমে প্রথম ও তৃতীয় অবস্থানে। এছাড়া, কিউএস র্যাংকিংয়েও এবছর বাকৃবি কৃষি ও বন বিজ্ঞান সাবজেক্ট ক্যাটাগরিতে বিশ্বসেরা ৩০১ থেকে ৩৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের এর মধ্যে রয়েছে।
এই র্যাংকিং সফলতায় বাকৃবি পরিবারের একজন সদস্য হিসাবে এবং বাকৃবির র্যাংকিং উদ্যোগের ক্ষুদ্র অংশ হতে পেরে খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। প্রাণঢালা অভিনন্দন, প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান স্যার, মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর যার নেতৃত্বে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। অভিনন্দন, বাকৃবি র্যাংকিং টিমের সদস্যবৃন্দ যারা মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর স্যার এর দিক নির্দেশনায় নিরলসভাবে কাজ করে র্যাংকিং সংশ্লিষ্ট দরকারি তথ্য-উপাত্ত ও ডকুমেন্ট সরবরাহ করে যাচ্ছেন। অভিনন্দন, বাকৃবির সন্মানিত সকল শিক্ষক সহকর্মী যাদের প্রকাশনা ও এসডিজি অর্জন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমেরই ফসল এই র্যাংকিংয়ে সফলতা। অভিনন্দন, বাকৃবির পরিবারের সকল সদস্যদের।
ড. মোঃ আলমগীর হোসেন
প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান, ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

