কৃষিগুচ্ছে সিলেকশন বৃদ্ধি বা বাতিল চান ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা

মতামত

সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা একটি বহুল প্রতীক্ষিত বিষয়। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের কৃষিশিক্ষাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এটি শুরু করে। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, উপমহাদেশের  কৃষি শিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপিঠ।

সমন্বিত পদ্ধতির প্রাথমিক বাছাই বা সিলেকশন প্রক্রিয়ার ব্যাপারে শুরু থেকেই প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।

করোনা মহামারীতে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় পূর্বের এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিচার এইচএসসির ফলাফল দেওয়া হয়। এতে শুধুমাত্র বিজ্ঞানে ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৬২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়। ২০২১ সালে শর্ট সিলেবাসের উপর অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৯৭ জন শিক্ষার্থী।।

সমন্বিত কৃষি ভর্তি পরীক্ষায় গতবছর নূন্যতম জিপিএর ভিত্তিতে আবেদনের সুয়োগ দেওয়ায় সর্বমোট ৭৬ হাজার ৫৩৯ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ভিত্তিক মোট নম্বরের ভিত্তিতে সিলেকশন করে মোট ৩৪ হাজার ৮৪৬ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয় যা আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও কম।

অনেক গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছেন, যাঁদের আর্থিক অনটন কিংবা পারিবারিক বা স্বাস্থ্যগত সাময়িক কোনো সমস্যার কারণে এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষায় একটি বা দুটি বিষয়ে ভালো নম্বর না পেলেও তাঁরা সিলেকশন পাওয়া শিক্ষার্থীর তুলনায় অধিক মেধাবী ও যোগ্য হতে পারেন, যা কি না ভর্তি পরীক্ষায় উল্লিখিত বিষয়গুলোতে বেশি নম্বর রেখেও মূল্যায়ন করা যেত। তাই এ বাছাই প্রক্রিয়ায় অনেকেই যোগ্য হলেও তাঁদের বিকশিত হওয়ার পথ আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বর্তমান উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল ও শিক্ষার্থীদের চাহিদার প্রেক্ষিতে সকল বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে।  এছাড়াও জাবি,চবিতে বিভিন্ন শিফটে আবেদনকৃত সকল শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। সাধারণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ (জিএসটি)ও সারাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানে সিলেকশন বেড়ে ৭২ হাজার করেছে।

কৃষি ও প্রকৌশলভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো (কয়েকটি বাদে) যদি গুচ্ছ পদ্ধতিতে আসার আগে আবেদনকৃত যোগ্য সব শিক্ষার্থীর জন্য ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে পারে, তাহলে সম্মিলিতভাবে কেন পারবে না—এ প্রশ্ন অনেকের। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে যদি ভর্তিচ্ছু সব প্রার্থীর জন্য ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে পারে, তাহলে তারা কেন পারবে না।

কিন্তু কৃষি গুচ্ছ তাদের সীট সংখ্যার দশ গুন শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার নীতি থেকে সরে আসছে না। যখন কৃষি গুচ্ছ ছিল না তখন বাকৃবি ও বশেমুরবি ব্যাতিত অন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালগুলোতে আবেদনের প্রায় সকল শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ দেয়া হতো। অথচ কৃষি গুচ্ছ যেখানে শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত সেখানে কমিয়ে দিচ্ছে।

যদি সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়া হয় তবে অনেক শিক্ষার্থী যারা কৃষিবিদ হওয়ার স্বপ্ন লালন করে তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ মেধাবীরাই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে। তাই কৃষিতে গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতির সিলেকশন পদ্ধতি বাতিল করা হোক অথবা সিলেকশন বৃদ্ধি করা হোক এ দাবী ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ।

 

  •  
  •  
  •  
  •