বিসিএস বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাব!
নিউজ ডেস্কঃ
বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বিসিএস বিশ্ববিদ্যালয়’ নাম দেওয়ার প্রস্তাব করে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে মজা করছে। মজা করে বললেও বাস্তবতা আছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ ও সমাজ বিশ্লেষক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। শিক্ষার্থীরা আর ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, গবেষক হতে চাইছে না। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে বিসিএস পরীক্ষা দিচ্ছে।
সবাই এখানে মজা পাচ্ছে। চাকরির ক্ষেত্রে মানুষের স্বাধীনতা থাকতেই পারে। কিন্তু এভাবে ঝুঁকে পড়াটা এক ধরনের সংকেত। অন্য পেশার তুলনায় বিসিএস চাকরিটা মহামূল্যবান করে তোলা হয়েছে। রাষ্ট্র, সমাজের জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি ফাঁদ। এতে মানবসম্পদ তৈরির জায়গাটা দিন দিন সংকোচিত হচ্ছে।
আর যারা এই বিসিএস-এর চাকরি করতে চায় না, তারা বাইরে চলে যাচ্ছে। বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে হয়তো পাঁচ লাখ। চাকরি মিলছে পাঁচ হাজারের। বাকিদের কী হবে?
সরকারি চাকরির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অতিমাত্রায় ঝুঁকে পড়ার কড়া সমালোচনা করলেন শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে এখন বিসিএস চর্চায় আছি। আমি বলি, “বিসিএস বিশ্ববিদ্যালয়” নামে একটা বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হোক। সেখানে “প্রিলিমিনারি পরীক্ষা”, “ভাইভা” ইত্যাদি নামে বিভাগ থাকবে। দারুণ চলবে কিন্তু।’
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আরও বলেন, বিসিএস বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যাবে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকেরা পাত্তা পাবেন না। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সেখানে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, প্রক্টর ইত্যাদি হওয়ার জন্য আজকে শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি। আমি মনে করি, আত্মসমালোচনার প্রয়োজন আছে। আমরা সব সময় অন্যের দিকে আঙুল তুলি, নিজের দিকে তুলি না। সমালোচনা যদি সবার ভেতর থেকে শুরু হতো, তাহলে হতাশা থাকত না।’
অনেকের মতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা যদি বিসিএসে মূল্যায়নের সুযোগ না থাকে তাহলে এইচএসসি পাশ করার পর বিসিএস পাশ করে পেশাগত ট্রেনিং দ্বারা দক্ষ কর্মকর্তা তৈরি করা যেতে পারে!

