পীরগঞ্জে ইট ভাটায় উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল!

সনজিৎ কুমার মহন্ত, রংপুর প্রতিনিধি:
পরিবেশ অধিদপ্তরের নাকের ডগায় রংপুরের পীরগঞ্জে ৪০টি ইট ভাটায় কয়লার পরিবর্তে জ্বালানী কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ধবংস হয়ে যাচ্ছে সবুজ বেষ্টনী বনাঞ্চল। ইটভাটা গুলোতে কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ হলেও তা মানছেন না বেশীর ভাগ ইটভাটার মালিকগণ। এতে করে ভাটার কালো ধোয়া পরিবেশ ও কৃষি ফসলের মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৯৮৯ এবং ২০০১ সালের সংশোধিত আইন মোতাবেক সরকারী লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া ইট ভাটা স্থাপন ইট তৈরী করা কিংবা ইট পোড়ানো হচ্ছে করা হয়েছে। এছাড়াও লাইসেন্স এর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র জেলা প্রশাসক বরাবরে নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে আবেদনের পর এডিসির নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি সরে জমিন তদন্ত সাপেক্ষে সন্তোষজনক প্রতিবেদন দাখিলের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কর্তৃক লাইসেন্স ইস্যুর পর ইট ভাটা স্থাপন সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা রয়েছে। অথচ পীরগঞ্জে বেশীর ভাগ ইট ভাটা গুলো ফসলি জমিতে ও তার চারপার্শ্বে শতশত বসতবাড়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পার্শ্বে ইট ভাটা গুলো গড়ে উঠেছে।

পীরগঞ্জ ইট ভাটা প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি সুত্রে জানা গেছে, “উপজেলায় মোট ৪০টি ইট রয়েছে। তবে ৮-১০টি ইট ভাটা বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ গুলোর মধ্যেও ২-১টি ইট ভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র থাকলেও বাকী গুলোর নেই।”

সরে জমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভাটা মালিক রবিউল ইসলাম, ফারুক হোসেন, আতা মিয়া, জোয়াদ মন্ডল, সাজু মিয়া, উজ্জ্বলসহ আরও বেশ কয়েকটি ইট ভাটায় কয়লার পরিবর্তে জ্বালানী কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। নাম না প্রকাশে- ইট ভাটার ফায়ারম্যান বলেন, একটি ইট ভাটায় প্রতি রাউন্ড ইট পোড়াতে গড়ে ৩’শ টন জ্বালানী কাঠ দরকার এবং ডিসেম্বর’১৫ থেকে চলতি এপ্রিল-১৬ পর্যন্ত ইট পোড়ানো মৌসুমে প্রতিটি ইট ভাটায় কমপক্ষে ৮ রাউন্ড ইট পোড়ানো হয়। এভাবে বছরে গড়ে ২’হাজার ৪’শ টন ইট পোড়ানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইট ভাটার সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, কয়লা সংকটের কারণে ভাটার চুলায় আগুন ধরাতে জ্বালানী কাঠের প্রয়োজন হয়। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম. গোলাম কিবরিয়া বলেন বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে, তবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: