‘আমি টাকা চাইনে, মরার আগে গেজেটে নাম দেখতে চাই’

আহমেদ নাসিম আনাসারী, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
‘সে সময় আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, গড়াইটুপির মরহুম সাবদার হোসেন, মোহাম্মদপুর গ্রামের মরহুম এড আইয়ূব হোসেন, খেজুরতলার মরহুম ফুটান, ধোপাবিলা গ্রামের আনসার, আবু তৈয়ব, আব্দুলসহ আরও অনেকেই। এক সঙ্গে যুদ্ধ করে সহকর্মীদের গেজেটে নাম উঠলেও আমার নামটা গেজেটে আজও ওঠেনি।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে প্রমানাদি দেখিয়ে বলেন, ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ চৌধূরী স্বাক্ষরিত সনদও তার রয়েছে (যার নং-৫৪১৪২)। মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সোসাইটি থেকেও তার সনদ প্রদান করা হয়েছে যার নং ৫৮৩৭।” আক্ষেপ করে বলেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল।

ছোট ছেলে জিয়ারুল জানান, তার বাবা গেজেটে নাম ওঠানোর জন্য ২০১১ সালে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর কাছে দরখাস্ত করেন। ২০১১ সালের ৯ মার্চ প্রতিমন্ত্রী ১২৮৯ নং স্মারকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সচিবকে নোট দিয়েছিলেন। কিন্তু ৫ বছর পার হলেও কোন সাড়া নেই। বাবা মৃত্যুর আগে ভাতা নয়, গেজেটে নাম ওঠা দেখে মরতে চান।

উল্লেখ্য, আব্দুল জলিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের মৃত ছানারুদ্দীনের ছেলে। তিনি ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহন করেন। বর্তমান তিনি সাধুহাটী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে বড় ছেলে ফারুক হোসেন ও ছোঠ ছেলে জিয়ার কাছে বসবাস করেন। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল জানান, ১৯৭১ সালে তার বয়স যখন ১৯ বছর তখন তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তার কমান্ডার ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার সলুয়া গ্রামের ওয়াজেদ আলী। তার নেতৃত্বে তিনি কোটচাঁদপুরের ধোপাবিলা, চুয়াডাঙ্গার খেজুরতলা, গড়াইটুপি, বংকিরা, গোবিন্দপুর ও রাঙ্গিয়ারপোতা এলাকায় সক্রিয় ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: